ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিকের উপর হামলা, জমি দখলের চেষ্টা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ।। বাংলাদেশ সংবাদ উন্নয়ন সংস্থার তীব্র নিন্দা ,প্রতিবাদ ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা, তাঁর জমি দখলের চেষ্টা, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাংচুরসহ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ ১৮ই মার্চ বুধবার দুপুর ১টায় সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের ০৩নং ওয়ার্ডের মাদ্রাসা পাড়া এলাকায় সাংবাদিক আসাদ এর ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক হলেন আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি দৈনিক মানবকন্ঠ ও ডেইলি অবজারভার এর ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। আর অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম এখলাস (৫৫), সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও বগুড়াপাড়া এলাকার খোরশেদ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় ০৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া সাইফুল
বেসরকারি সংস্থা ইএসডিওতেও কর্মরত রয়েছে। সাইফুলের ছেলে রাকিব স্থানীয় সন্ত্রাসী।
পুলিশ, ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তার পরিবার এবং স্থানীয়রা জানায়,
সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের আওতাধীন বরুনাগাঁও মৌজার ৪২২ নং দাগের ৭৬ শতাংশ জমি তাঁর পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে স মিলসহ বিভিন্ন ব্যবসায় পরিচালনা করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি বুধবার স মিলের কাজ শুরু করেছিলেন। এসময় ওয়ার্ড বিএনপির নেতা সাইফুল ইসলাম এখলাস ও তার ছেলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব এর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে স্বস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসাদুজ্জামান আসাদ এর উপর অতর্কিত হামলা চালায় এসময় বাঁশের লাঠি, লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে সাংবাদিক আসাদের উপর হামলা চালায়। সে সময় বিএনপি নেতা সাইফুল ও তার ছেলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব সাংবাদিক কে ফেলে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এতে সাংবাদিক আসাদ গুরুতর আহত হন।
সাংবাদিক আসাদ বাঁচার উদ্দেশ্য চিৎকার করলে সাংবাদিক আসাদের ভাই আকতরুজ্জামান এসে ধাক্কা দিয়ে সাইফুল ও রাকিবকে সরিয়ে প্রাণে সাংবাদিক আসাদকে রক্ষা করে।
পরে সাইফুল ও তার ছেলে রাকিব আকতারকে বাঁশের লাঠি, লোহার রড ও দেশিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় এবং তাকে মারপিট করে। সে সময় সাংবাদিক আসাদের প্যান্টের পকেটে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য রাখা নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
পরে সাংবাদিক আসাদ ও তার ভাই আকতারের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে তাদের দুই ভাইকে উদ্ধার করে।
সে সময় স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম এখলাস গিয়ে জমির কাজে বাঁধা প্রদান করে। সে সময় বাঁধা প্রদানের কারণ জানতে চাইলে সাইফুল জানান, এই জমিতে কাজ করতে হলে বা জমিতে থাকতে হলে আমাকে ও আমার লোকজনকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা প্রদান করতে হবে। চাঁদা প্রদান না করলে এই জমিতে কোন কাজ করতে দেওয়া হবে না৷ আমি স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আমার অনুমতি ব্যতিত কোন কাজ এখানে বা অন্যত্র আমি ও আমরা হতে দেবো নাহ৷ সেই সময় সাইফুলের সাথে থাকা তার ছেলে ও স্থানীয় সন্ত্রাসী রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলে, এখানে আমার বাবা বিএনপি নেতা সাইফুল ও আমিই বিএনপির সব। আমাদের চাঁদা না দিলে কোন কাজ করতে দেওয়া হবে না। আমাদের পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা লাগবে। এক্ষুনি চাঁদার টাকা দেও, নইলে কাজ বন্ধ করো।
বিএনপি নেতা সাইফুল ও তার ছেলে রাকিব চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সাইফুল ও রাকিব, আরফিনাসহ অজ্ঞাত নামা আরো ১৫-২০জন সন্ত্রাসী দেশিয় অস্ত্রে স্বত্রে সজ্জিত হয়ে সাংবাদিক আসাদ এর ভাই আকতার এর উপরে হামলা চালায়। এ সময় বিএনপি নেতা সাইফুল লোহার রড় দিয়ে আকতারুজ্জামানকে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। এতে ভিকটিম আকতার এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। সেই সময়ে ভিকটিম আকতারকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। আকতার মাটিতে পরে গেলে সাইফুল ও রাকিব সাথে থাকা সন্ত্রাসীরা আকতারকে ঘিরে ফেলে।
এ সময় বিএনপি নেতা সাইফুল ভিকটিম আকতার এর পেন্টের পকেটে থাকা ৮০,০০০/- টাকা জোর পূর্বক অন্যায় ও অবৈধ ভাবে ছিনিয়ে নেয়। সেই সময় বিএনপি নেতা সাইফুল ভিকটিম আকতার এর গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে এবং ৫,০০০০০/-(পাঁচ লাখ) টাকা চাঁদা দাবি করে। বলে চাঁদার টাকা না দিলে ব্যাটা তোকে প্রাণে মেরে ফেলবো। আর চাঁদার টাকা না দিতে এই জমিতে আসবি না।
তখন অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক আসাদ এর ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা ও ভাংচুর চালায়।
এসময় গলা চাপার ফলে ভিকটিম আকতার এর গোংরানিতে স্থানীয় মাসুদসহ আশেপাশের লোকজন এসে ভিকটিম আকতার কে প্রাণে রক্ষা করে। সে সময় আশে পাশের লোকজন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি নেতা সাইফুল, তার ছেলে রাকিব, স্ত্রী আরফিনাসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায় এবং যাওয়ার সময়ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে ভিকটিম ও তার পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় ফাসানো ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় লোকজন সাংবাদিক আসাদ ও তার পরিবারকে মুঠোফোনে সংবাদ দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে হামলার বিষয়ে অবগত হয় এবং ভিকটিম আকতারকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে ও পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জমির মালিক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আমার জমিতে অন্যায় ও অবৈধ ভাবে দলবদ্ধ হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে আমার প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, আমার ও আমার ছোট ভাইয়ের উপর হামলা ।
এই ন্যাকারজনক চাঁদাবাজির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় সভাপতি মমিনুর রশিদ লাইন, মহাসচিব কামরুল ইসলাম,সহ সভাপতি হাসান সরদার জুয়েল সহ সকল নেতৃবৃন্দ। সেই সাথে এই ঘটনায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনায় গত ১৮ই মার্চ বুধবার রাতে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাংবাদিক আসাদ এর মা আনোয়ারা বেগম।

