জামায়াতের সমাবেশে পিআর পদ্ধতির দাবি, রাজপথে উত্তাপের শঙ্কা
আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশাল সমাবেশ। সারা দেশ থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় সমবেত হন এ কর্মসূচিকে ঘিরে। যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের নিজস্ব কর্মসূচি, তবে বক্তাদের পরিচয় ও বক্তব্যে অনেকেই একে অঘোষিত রাজনৈতিক জোট গঠনের ইঙ্গিত বলেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সমাবেশে বক্তাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বা আছেন। তাঁরা সবাই মিলিতভাবে দাবি করেন—বাংলাদেশে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন যেন ‘প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন’ (পিআর) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর ভাষায় চাপ দেন বক্তারা।
সরকারকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তারা বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে দেশে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। বক্তৃতার ভেতর থেকেই রাজপথে তীব্র আন্দোলনের বার্তা পাওয়া যায়, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি রাজপথ উত্তপ্ত হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ তার পুরনো কৌশল প্রয়োগ করে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারে। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে তা কারও নিয়ন্ত্রণে নাও থাকতে পারে, যা সরকারকে ‘অভ্যন্তরীণ সংকট ব্যবস্থাপনা’ নামের পুরনো ফর্মুলা প্রয়োগের সুযোগ দিতে পারে।
সমাবেশের শেষদিকে একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটে। জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান বক্তব্য দিতে গিয়ে দু’বার মঞ্চে পড়ে যান এবং একবার জ্ঞান হারান। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে পুনরায় বক্তব্য দেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ একে ‘টার্মিনেটর সিনেমার দৃশ্য’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন।
চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপে জ্ঞান হারানোর পর এত দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে ওঠা চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিচারে অস্বাভাবিক। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মত দেওয়ার অধিকার চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের।
সবকিছুর পরও, ড. শফিকুর রহমানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থভাবে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন—আমিন।

